• Tue. May 24th, 2022

BograOnline.Com

Online News Portal

র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর দেশে আর কোনো ‘ক্রসফায়ার’ ঘটেনি! 

Byadmin

Feb 10, 2022

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে গত দুই মাসে ‘‘ক্রসফায়ার’’-এর বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশে ঘটেনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের (এনএইচআরসি) এক সাবেক চেয়ারম্যান মনে করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকলাপের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সংখ্যা আরও কমে আসবে।

গত ১০ ডিসেম্বর থেকে বুধবারের মধ্যে পুলিশ বা র‍্যাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘‘বন্দুকযুদ্ধ’’ বা ‘‘ক্রসফায়ার’’ বিষয়ক কোনো খবর গণমাধ্যমে আসেনি।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত র‍্যাব যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সম্পত্তির মালিক হতে পারবে না কিংবা কোনো মার্কিন সংস্থা বা কর্মীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না।

এ তালিকায় রয়েছেন- র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার লতিফ খান।

এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ রয়েছেন। তিনি এখন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর সে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে সম্পৃক্ততার জন্য এ দুজনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (এএসকেও তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য প্রভাব

এনএইচআরসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, র‌্যাবের মতো অভিজাত আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কতদিন বন্ধ থাকবে তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে গত দুই মাসের চিত্র দেখে আগামী কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমে আসবে, সে ব্যাপারে আশা করা যায়।”

এনএইচআরসির সাবেক চেয়ারম্যান জানান, র‍্যাব ছাড়াও এ সংস্থার অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে সেটি তাদের পারিবারিক সুনামেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুসারে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সর্বমোট ২,৬৪৪ জন ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর মধ্যে গত বছরই ১০৭টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অধিকাংশ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি, নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যই অপরাধীদের ওপর গুলি চালাতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

তার মৃত্যুর পর পুলিশ দাবি করে, শামলাপুরের চেকপয়েন্টে গাড়ির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে সিনহা পিস্তল তাক করার কারণেই আত্মরক্ষার্থে তার ওপর গুলি চালানো হয়।

মন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অস্বীকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তিনি বলেন, “আমি খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে অন্যান্য এলাকায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মতামত জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় থাকায় আগামী দুই বছরে দেশ আরও অনেক আক্রমণের শিকার হবে।

(সুত্র বাসস)

Leave a Reply

Your email address will not be published.