• Tue. May 24th, 2022

BograOnline.Com

Online News Portal

বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনাই বাঙালির অহংকার: এস এম কামাল হোসেন ।

Byadmin

Apr 5, 2022

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না, তা বুঝেই ক্ষমতায় যেতে বেছে নিয়েছে ষড়যন্ত্রের পথ। কারণ খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেলে আর তারেক জিয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, মানি লন্ডারিং মামলার আসামি, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। বাংলাদেশের মানুষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেখেছে বিএনপি’র তান্ডব। দেশের জনগণ জানে বিএনপির মানে জঙ্গিবাদ। তাদের আমলে ঢাকা শহর পরিণত হয়েছিল জঙ্গিবাদী শহরে আর বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল সন্ত্রাসীদের দেশ হিসেবে। তাদের আমলে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাঁচবার। এ কারণে দেশের জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে না। তাই তারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার সরকারকে বিদায় করতে চায়।

সোমবার (০৪ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৩৮নং ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ প্রাঙ্গণে রোকন উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। 

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু আহমেদ মন্নাফি। 

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবির।

এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল কাউন্সিল অধিবেশনে আগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ২০২৩ সালে মূল লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দলকে বিজয়ী করা। তিনি বলেন, বিএনপি জানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ নেই। দেশের ব্যবসায়ীদের এখন আর হাওয়া ভবনে ব্যবসা করার জন্য চাঁদা দেওয়া লাগে না, কোন টেন্ডারবাজি হয় না, দেশে জঙ্গিবাদ নেই, মাদকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। আর এ কারণেই দেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন, বছরের প্রথম দিনে কোমলমতি শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন। তাই আমি বলতে চাই, আমাদের একজন শেখ হাসিনা থাকার পরও আমরা কেন ২০২৩ সালের নির্বাচনে জিততে পারব না। শেখ হাসিনা ছিলেন বলেই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনার পরিচয় তিনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তার বড় পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল বলেন, শেখ হাসিনা যা হারিয়েছেন আমরা কেউই তা হারায়নি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা ভাই-বোনসহ ১৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলকে হারিয়েছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে তিনি তার বাবার বাড়িতে ঢুকতে পারেননি, তিনি সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, আমি যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি, সবকিছু হারিয়ে তিনি দেশ ও দেশের জনগণের কথা ভেবেছেন। এই হচ্ছে আমাদের শেখ হাসিনা। 

এসময় এস এম কামাল বলেন, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারেনি, দাঁড়াতে দেয়নি আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১১টি গ্রেনেড হামলা করেছে। বিএনপি’র মূল লক্ষ্য হচ্ছে ষড়যন্ত্র করে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া।

বিএনপির ষড়যন্ত্র ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না তা তারা বুঝে গেছে। দেশের জনগণ তাদের ভোট দেবে না-এটা তারা ভালো করেই জানে। তাই ষড়যন্ত্র ছাড়া তারা বিকল্প কোন কিছু ভাবতে পারে না। বিএনপির জন্ম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। রাতের অন্ধকারে পিস্তল ঠেকিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হয়ে তখন প্রতি রাতে ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কার্ফু দিয়ে স্বাধীন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। খুনি জিয়া একটি দল গঠন করে, তার নাম বিএনপি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যখন অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন, সেই সময়ে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে কাজ করেছিল এবং বাংলাদেশ বিরোধী স্লোগান দিয়েছিল তাদেরকে নিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি নামক দল করে। আর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে অবস্থান নেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করে আবারও প্রমাণ করলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের কথা এবং দেশের জনগণের কথাই ভাবেন। আমার বিশ্বাস, এতকিছু করার পর দেশের জনগণ শেখ হাসিনার সাথে বেইমানি করতে পারে না ‌। শেখ হাসিনা আমাদের অহংকার, শেখ হাসিনা আমাদের গর্ব, আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের কাজ করা, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে নির্বাচনে জেতা-এটাই আমাদের প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের কাছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি দোয়া চাই ও প্রার্থনা করি-আগামী নির্বাচনে ভোটে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে।

এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসাবে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজেদা বেগম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশিকুর রহমান লাভলু প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.