• Tue. May 24th, 2022

BograOnline.Com

Online News Portal

কারাগারে ‘অস্বাভাবিক’ আচরণ করছেন সাবেক ওসি প্রদীপ

Byadmin

Feb 7, 2022

কক্সবাজার কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনার পর থেকেই কারারক্ষীদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেছেনটেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনার পর থেকে প্রদীপ কুমার দাশ ঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়াকরছেন না। তাকে রাখা হয়েছে কারাগারের ৩২ নম্বর কনডেম সেলের পৃথক একটি কক্ষে। রোববার একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রেএসব তথ্য জানা গেছে। অপরদিকে ৩২ নম্বর কনডেম সেলের আরেকটি কক্ষে রাখা হয়েছে একই মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তবরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। তবে তিনি স্বাভাবিক এবং চুপচাপ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গতকাল শনিবারদুপুরে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় প্রদীপ ও লিয়াকতকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

যে ৩২ নম্বর কনডেম সেলে প্রদীপ ও লিয়াকত এখন রয়েছেন, সেটার পাশেই চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়৷এখান থেকেই অপরাধীদের ধরতে বিভিন্ন অভিযানে যেতেন এক সময়ের প্রতাপশালী ওসি প্রদীপ কুমার দাশ৷ একই দপ্তরেকর্মরত ছিলেন ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীও। মাত্র দেড় বছর আগেও এ দুজন আসামির হাতে হাতকড়া পরাতেন। এখন তাদেরহাতেই হাতকড়া। শরীরে কয়েদির পোশাক। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তটেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং একই থানার বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে সেইহাতকড়া পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তায় আনা হয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, অন্য কয়েদিদের মতো প্রদীপ ও লিয়াকতের পরনে কারা পোশাক রয়েছে। চট্টগ্রামে আনারপরে তাদের রাখা হয়েছে ৩২ নম্বর কনডেম সেলের পৃথক দুটি কক্ষে। কারাগারের অন্য বন্দিদের মতো তাদের খেতে দেওয়া হচ্ছেসাদা ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি। অন্য সেলের তুলনায় কনডেম সেল আকারে ছোট। সেলের ভেতর আলো-বাতাস তেমন থাকেনা।

কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, এক সময়ের প্রতাপশালী ওসি প্রদীপ এখন কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি। যার নামশুনলে ভয়ে কেঁপে উঠত টেকনাফের সাধারণ মানুষ। খলনায়কের মতো, প্রদীপের নাম বলে ওই এলাকায় ছোট্ট শিশুদের ঘুমপাড়াতেন মায়েরা। সেই মানুষটিই এখন ঘুমাতে পারছেন না। আরাম-আয়েশের রঙিন জীবন থেকে এখন চার দেয়ালে বন্দি হয়েমৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তাদের পরনে এখন সাদা–কালো রঙের কয়েদির পোশাক। টেকনাফ থানায় বদলির আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয়কারাগার সংলগ্ন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে প্রদীপ ও লিয়াকত কর্মরত ছিলেন। শুধু কর্মস্থল নয়, তারা দুজন বেড়েউঠেছেনও এ চট্টগ্রাম শহরেই।

গত ৩১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড ওছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। ফাঁসির রায়ের পর কক্সবাজারজেলা কারাগারের কনডেম সেলে পাঁচদিন রাখার পর অজানা কারণে প্রদীপ ও লিয়াকতকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরকরা হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘প্রদীপ ওলিয়াকতকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী ফাঁসির আসামিদের যেভাবে রাখার নিয়ম রয়েছে, তাদেরও সেভাবে রাখা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টর বলছেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় রায় এবং রায়ের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতারঅপব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের একটি মেসেজ হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতেরএ রায় চূড়ান্ত নয়, মামলায় যারা দণ্ডিত হয়েছেন তাদের উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সেসব আদালতে এরায়ের ভাগ্য কীভাবে নির্ধারিত হবে তা কেবল ভবিষ্যতই বলে দেবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আরটিভি নিউজকেবলেন, ‘প্রদীপের অস্বাভাবিক আচরণের সংবাদটি সঠিক না। তবে, তাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে। সম্ভবত আদালতের রায়েসন্তুষ্ট নন তিনি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.